
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ—বেবিচক (CAAB)-এ চাকরি নিয়ে আগ্রহীদের মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়। চাকরিটি কি সরকারি, অবসরের পর পেনশন সুবিধা আছে কি না, কোথায় পোস্টিং হয় কিংবা কাজের সময় কেমন—এসব বিষয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহ স্বাভাবিক।
বেবিচক একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন এ সংস্থায় অনুমোদিত স্থায়ী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রযোজ্য বিধি ও চাকরির শর্ত অনুযায়ী বেতন-ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশন সুবিধা পেয়ে থাকেন।
বেবিচকের চাকরির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেশের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক কর্মপরিবেশ। পদ ও বিভাগের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকার বেবিচক সদর দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পোস্টিং হতে পারে।
ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশালসহ বেবিচকের আওতাধীন বিভিন্ন বিমানবন্দর ও স্থাপনায় কাজের সুযোগ রয়েছে। চাকরির প্রয়োজনে এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে বদলিও হতে পারে।
না। বেবিচকের সব পদে শিফটিং ডিউটি নেই।
প্রশাসনিক ও সাধারণ অফিসভিত্তিক অনেক পদে নির্ধারিত অফিস সময় অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হয়। অন্যদিকে বিমানবন্দর একটি ২৪ ঘণ্টার অপারেশনাল পরিবেশ হওয়ায় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, এভিয়েশন সিকিউরিটি, যোগাযোগ ও নেভিগেশনসহ বিভিন্ন অপারেশনাল দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ ও কর্মস্থল অনুযায়ী রোস্টার বা শিফটিং ডিউটি করতে হতে পারে।
অর্থাৎ সকাল, বিকেল বা রাত—ফ্লাইট অপারেশন ও দায়িত্বের প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ডিউটির সময় নির্ধারিত হতে পারে।
বেবিচকের চাকরির একটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এভিয়েশনের বিশেষায়িত ও পেশাদার পরিবেশে কাজ করার সুযোগ। বিমানবন্দর পরিচালনা, এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফ্লাইট সেফটি, এভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রকৌশল, যোগাযোগ ও নেভিগেশন, প্রশাসন, অর্থ এবং বিমানবন্দর উন্নয়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে বিমানবন্দরের অপারেশনাল পরিবেশে কাজ করলে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স, উড়োজাহাজ পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।
চাকরির নিরাপত্তা, অবসরকালীন সুবিধা, বিভিন্ন বিমানবন্দরে কাজের সুযোগ এবং বিশেষায়িত এভিয়েশন পরিবেশ—সব মিলিয়ে বেবিচকের চাকরি দেশের আকর্ষণীয় সরকারি খাতের চাকরিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে চাকরিপ্রার্থীদের মনে রাখা প্রয়োজন, সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি বিমান চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করার কারণে এখানে দায়িত্বও অনেক বেশি। বিশেষ করে অপারেশনাল পদে নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংক্ষেপে—বেবিচক সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্থায়ী পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী পেনশনসহ অবসরকালীন সুবিধা রয়েছে, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পোস্টিং হতে পারে এবং অপারেশনাল পদে শিফটিং ডিউটির ব্যবস্থাও রয়েছে। বিমানবন্দরের আধুনিক ও পেশাদার পরিবেশে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় কর্মক্ষেত্র।