
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশসহ দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বৃহস্পতিবার ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসার পর বিমানবন্দরের আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেল থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন ভারতীয় নাগরিক আব্দুল রহমান (৪৬) ও মোহাম্মদ ইকবাল আনসারি (৪৫)। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দুপুর ১টার দিকে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়।
এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের TG-321 ফ্লাইটে ঢাকায় আসা আব্দুল রহমান ও মোহাম্মদ ইকবাল আনসারিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
পরে উপস্থিত সাক্ষী এবং বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে তাদের ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। ডিএনসির দাবি, তল্লাশির সময় ট্রলিতে থাকা কাপড়ের নিচে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি জানিয়েছে, অভিযানে মাদক ছাড়াও তাদের কাছ থেকে দুটি ভারতীয় পাসপোর্ট, ৫০০ মার্কিন ডলার, ১০ হাজার ভারতীয় রুপি, তিনটি স্মার্টফোন এবং দুটি বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
জব্দ করা পাসপোর্ট ও বোর্ডিং কার্ডসহ ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর মাধ্যমে তাদের ভ্রমণের গতিপথ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
ডিএনসির ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর), বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন মামলাটি দায়ের করেছেন।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সীমান্ত অতিক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হওয়ায় মাদক পাচার প্রতিরোধে যাত্রী ও ব্যাগেজ স্ক্রিনিংয়ের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে গ্রিন চ্যানেল সাধারণত ঘোষণা করার মতো শুল্কযোগ্য পণ্য নেই—এমন যাত্রীদের বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হলেও সন্দেহ বা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে যাত্রী ও ব্যাগেজ তল্লাশি করা হতে পারে।
ডিএনসি জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)