
দেশের বিমানবন্দরগুলোর এভিয়েশন নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের দক্ষতা বাড়াতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের (ডিএফটি) পাঁচ দিনব্যাপী ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি সুপারভাইজার ট্রেনিং’ ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মরত এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সুপারভাইজার ও কর্মকর্তারা অংশ নেন। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রশিক্ষকরা এভিয়েশন নিরাপত্তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। বিশেষ করে পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, নিরাপত্তা তদারকির সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মোঃ আসিফ ইকবাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর রায়ান ডানকানসন। এ সময় যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট, ব্রিটিশ হাইকমিশন ও বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এয়ার কমোডর মোঃ আসিফ ইকবাল বলেন, পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় এভিয়েশন সিকিউরিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং প্রস্তুতি নিয়মিতভাবে উন্নত করা জরুরি। এ ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য তিনি ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডিএফটি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের পাশাপাশি শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রায়ান ডানকানসন এভিয়েশন নিরাপত্তায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে কোর্স সম্পন্নের সনদ বিতরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ কর্মদিবসব্যাপী ডিএফটি এভিয়েশন সিকিউরিটি সুপারভাইজার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।