
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর একটি কার্গো বিমান আরব সাগরের আকাশে নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের সন্ধানে সমুদ্র এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কে-২ এয়ারওয়েজের একটি Boeing 737-400 কার্গো বিমান শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। করাচির পশ্চিমে আরব সাগরের ওপর দিয়ে উড্ডয়নের সময় একপর্যায়ে বিমানটির সঙ্গে রাডার ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সর্বশেষ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত বিমানটির অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি এবং পাঁচ ক্রু সদস্যের সন্ধানও পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটের দিকে বিমানটির ফ্লাইটে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
এ সময় বিমানটিকে দ্রুত উচ্চতা হারাতে এবং হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল বা আনুমানিক ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে বিমানটির সঙ্গে রাডার ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রাডার থেকে হারিয়ে যাওয়ার আগে দ্রুত উচ্চতা কমে যাওয়া এবং গতিপথ পরিবর্তনের কারণ এখনো জানা যায়নি। ফলে বিমানটি কোনো কারিগরি সমস্যায় পড়েছিল কি না কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, তা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয় এবং সম্ভাব্য অবস্থান ঘিরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।
পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি, উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে আরব সাগরের বিস্তৃত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানকারী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য বিমানটির সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা এবং এতে থাকা পাঁচ ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করা।
সমুদ্রের ওপর কোনো উড়োজাহাজ নিখোঁজ হলে সর্বশেষ রাডার অবস্থান, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ, ফ্লাইটপথ এবং সম্ভাব্য গতিপথ বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধান এলাকা নির্ধারণ করা হয়। সমুদ্রের আবহাওয়া, ঢেউ এবং দৃশ্যমানতার মতো বিষয়ও এমন অভিযানের গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ Boeing 737-400 কার্গো বিমানটিতে মোট পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
তবে তাদের নাম, জাতীয়তা কিংবা দায়িত্ব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একইভাবে বিমানটি কী ধরনের পণ্য বহন করছিল, সেটি কোন নিবন্ধনের উড়োজাহাজ এবং ঘটনার সময় এর কারিগরি অবস্থা কেমন ছিল—এসব বিষয়েও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে এসব বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
Boeing 737-400 মূলত 737 Classic পরিবারের একটি উড়োজাহাজ। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীবাহী 737-400 উড়োজাহাজ রূপান্তর করে কার্গো পরিবহনেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এ ধরনের উড়োজাহাজ স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের কার্গো পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহনে রূপান্তরিত ন্যারো-বডি কার্গো উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে নিখোঁজ বিমানটির বয়স, রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস কিংবা সর্বশেষ কারিগরি অবস্থার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উড়োজাহাজটির মডেল বা বয়সের সঙ্গে বর্তমান ঘটনাকে যুক্ত করার মতো কোনো তথ্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
রাডারে দ্রুত উচ্চতা হারানোর তথ্য পাওয়া গেলেও সেটিকে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
কোনো উড়োজাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনে কারিগরি ত্রুটি, যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা, আবহাওয়া কিংবা জরুরি পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিমানটির অবস্থান শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের আগে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
উড়োজাহাজটি পাওয়া গেলে এর ধ্বংসাবশেষ বা কারিগরি অবস্থা, ফ্লাইট রেকর্ডার, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্য পরবর্তী তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব সাগরে নিখোঁজ বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা এবং এতে থাকা পাঁচ ক্রু সদস্যের সন্ধান পাওয়া।
সূত্র: পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ)