
সরকারি চাকরির বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান বা মামলা তদন্তাধীন থাকার কারণে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি আটকে রাখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, বিভাগীয় মামলায় অভিযোগনামা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চার্জশিট দাখিল কিংবা ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে বিধিমালায় নির্ধারিত পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত যোগ্য কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় আইনগত বাধা নেই।
সম্প্রতি পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে বেবিচকের কর্মকর্তারা ২০১১ সালের ৪ মে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের সংশ্লিষ্ট বিধান তুলে ধরে এ কথা বলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, গেজেটের ৫(১) ধারায় বিচারাধীন ও দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিধান অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগনামা দাখিল, দুদকের দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দাখিল, ফৌজদারি মামলা দায়েরের সরকারি অনুমোদন অথবা সংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার হলে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা যাবে না।
তিনি বলেন, “দুদক বা পুলিশের কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান কিংবা মামলার তদন্ত চলমান থাকা এবং চার্জশিট দাখিল হওয়া এক বিষয় নয়। বিধিমালায় যে পর্যায় থেকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাধার কথা বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা সেই পর্যায়ে না পৌঁছালে শুধু তদন্ত বা অনুসন্ধান চলমান থাকার কারণে তার পদোন্নতি আটকে রাখার বিধান নেই।”
বেবিচক কর্মকর্তাদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগনামা দাখিল না হলে, দুদকের মামলায় চার্জশিট না হলে কিংবা ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে বিধিমালায় বর্ণিত প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হলে তার যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও শূন্য পদের ভিত্তিতে পদোন্নতির বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হতে পারে।
গেজেটের ৫(২) ধারায় দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ওপর দণ্ড আরোপ হলে দণ্ড ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লঘুদণ্ডের ক্ষেত্রে এক বছর এবং গুরুদণ্ডের ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত তিনি পদোন্নতির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। দণ্ডের মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকলে সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এ সময় গণনা করা হবে।
অন্যদিকে, ৫(৪) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বিভাগীয় মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলে বা দোষী সাব্যস্ত না হলে এবং দুদক বা ফৌজদারি মামলার অভিযোগ থেকেও অব্যাহতি পেলে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে তাকে পরবর্তী পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা যাবে। বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তিনি ধারণাগত জ্যেষ্ঠতার সুবিধাও পেতে পারেন।
বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে শুধু অভিযোগ, অনুসন্ধান বা তদন্ত চলমান থাকার কারণে কোনো কর্মকর্তার পদোন্নতি অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখা সমীচীন নয়। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকা এবং বিধিমালায় নির্ধারিত কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি যথাসময়ে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তারা।