
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল বিভাগের হ্যাঙ্গার ইউনিটে ওভারটাইম ডিউটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওভারটাইমের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করলেও কিছু কর্মী নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন না। কেউ কর্মস্থল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ হ্যাঙ্গারের রেস্ট রুম বা মসজিদে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি রাতের শিফটের কিছু CCTV footage ও স্থিরচিত্র সামনে আসার পর বিষয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের মধ্যেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তবে ফুটেজে কাউকে বিশ্রাম নিতে দেখা গেলেই তিনি অনুমোদন ছাড়া দায়িত্বে অনুপস্থিত ছিলেন কিংবা অবৈধভাবে overtime payment নিয়েছেন—এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয় না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির duty roster, অনুমোদিত break, biometric attendance এবং বাস্তবে কত সময় দায়িত্ব পালন করেছেন—এসব তথ্য যাচাইয়ের পরই অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, হ্যাঙ্গার ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরে ওভারটাইম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছেন কিছু কর্মী।
অভিযোগ রয়েছে, রাতের শিফটে ওভারটাইমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মী বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের পর biometric fingerprint দিয়ে হাজিরা নিশ্চিত করেন। এরপর তাদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
আবার যারা হ্যাঙ্গার এলাকায় অবস্থান করেন, তাদের একটি অংশ নির্ধারিত কাজ না করে রেস্ট রুম বা মসজিদে দীর্ঘ সময় কাটান বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠবে—biometric attendance-এর পাশাপাশি একজন কর্মী নির্ধারিত overtime duty বাস্তবে সম্পন্ন করেছেন কি না, সেটি যাচাইয়ের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর।
সম্প্রতি হ্যাঙ্গার এলাকার রাতের শিফটের CCTV footage-এ কয়েকজন কর্মীকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ওই ভিডিওর কিছু স্থিরচিত্র পরে বিমান কর্মকর্তাদের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে overtime management নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তবে কোনো স্থিরচিত্র থেকে একজন কর্মী কতক্ষণ ঘুমিয়েছেন, সেটি তার অনুমোদিত বিরতির সময় ছিল কি না কিংবা তিনি নির্ধারিত দায়িত্ব সম্পন্ন করেছিলেন কি না—এসব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
ফলে CCTV footage-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সময়ের duty roster, overtime approval, biometric log এবং কাজের record মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সূত্রগুলোর দাবি, প্রতিদিন প্রায় ১০০ কর্মী এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত এবং একজন কর্মীর পেছনে overtime বাবদ মাসে গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
একই সূত্র থেকে মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির দাবিও করা হয়েছে।
তবে এখানে হিসাবগত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
যদি ১০০ কর্মীর প্রত্যেকে মাসে গড়ে ৪০ হাজার টাকা overtime পান, তাহলে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। আর প্রত্যেকে ৪৫ হাজার টাকা পেলে মোট হয় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।
অর্থাৎ শুধু এই দুটি সংখ্যার ভিত্তিতে মাসিক দেড় কোটি টাকার হিসাব পাওয়া যায় না।
দেড় কোটি টাকার দাবিটি যাচাই করতে হলে প্রকৃত overtime-এ অংশ নেওয়া মোট কর্মীর সংখ্যা, প্রত্যেকের overtime hours, rate, মাসিক মোট overtime bill এবং এর মধ্যে কতটুকু অনিয়মের মাধ্যমে পরিশোধ হয়েছে—এসব তথ্য প্রয়োজন।
ফলে মাসে দেড় কোটি টাকা সরকারি অর্থ অপচয়ের বিষয়টি এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, যাচাইকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত জুন মাসে প্রকৌশল বিভাগের overtime bill অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ার বিষয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অর্থ বিভাগের নজরে আসে।
সূত্রের দাবি, বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও Chief Financial Officer সৈয়দ মইন উদ্দীন এ নিয়ে আপত্তি জানান। এরপর বিলের পরিমাণ কিছুটা কমানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে জুনে প্রাথমিকভাবে কত টাকার overtime bill প্রস্তুত হয়েছিল, আপত্তির পর কত টাকা কমানো হয়েছে এবং কোন কোন বিল সমন্বয় করা হয়েছে—এসবের বিস্তারিত আর্থিক নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
ফলে বিষয়টির প্রকৃত আর্থিক মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট payroll ও overtime records যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
একটি এয়ারলাইন্সের engineering operation প্রচলিত অফিস সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
উড়োজাহাজের flight schedule অনুযায়ী line maintenance, inspection, defect rectification, scheduled maintenance এবং প্রয়োজনীয় engineering support দিন-রাত বিভিন্ন সময়ে দরকার হতে পারে।
বিশেষ করে কোনো উড়োজাহাজ technical issue-এর কারণে service থেকে বাইরে গেলে সেটিকে দ্রুত operational অবস্থায় ফেরাতে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরেও প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের কাজ করতে হতে পারে।
এ কারণে aviation engineering-এ overtime নিজে থেকে অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।
প্রশ্ন হচ্ছে—অনুমোদিত overtime hours-এর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কর্মী বাস্তবে দায়িত্ব পালন করেছেন কি না এবং সেই কাজ operational requirement অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ছিল কি না।
Biometric attendance একজন কর্মী কখন কর্মস্থলে প্রবেশ করেছেন বা নির্দিষ্ট attendance point-এ উপস্থিত হয়েছেন, তার একটি record দিতে পারে।
কিন্তু সেটি সবসময় পুরো shift-এ বাস্তব কাজ সম্পন্ন করার প্রমাণ নয়।
বিশেষ করে overtime-এর ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের জন্য biometric record-এর পাশাপাশি supervisor approval, duty assignment, কাজের শুরু ও শেষের সময় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী maintenance documentation মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
কোন কর্মী কোন aircraft বা engineering task-এ কাজ করেছেন—সংশ্লিষ্ট operational record থেকেও অনেক ক্ষেত্রে তা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে।
বিমান পরিবহনে engineering department একটি safety-critical unit।
উড়োজাহাজের airworthiness বজায় রাখা, technical defect শনাক্ত ও সমাধান এবং নির্ধারিত maintenance কার্যক্রম সম্পন্ন করার সঙ্গে সরাসরি flight safety জড়িত।
ফলে এখানে overtime অনিয়মের অভিযোগ শুধু আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়।
যদি কোনো ব্যক্তি এমন একটি engineering duty-এর জন্য overtime দেখান, যে দায়িত্ব তিনি বাস্তবে পালন করেননি—তাহলে সংশ্লিষ্ট সময়ে কাজটি কে সম্পন্ন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় engineering coverage বজায় ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বর্তমান অভিযোগ থেকে বিমানের কোনো উড়োজাহাজের maintenance অসম্পূর্ণ ছিল বা flight safety ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিমানের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
তাদের মতে, overtime payment-এর ক্ষেত্রে approval থেকে শুরু করে attendance verification এবং bill settlement পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে CCTV record, biometric data, gate access information, duty roster, overtime approval এবং payroll data একসঙ্গে যাচাই করা হলে প্রকৃত অনিয়ম হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার আর্থিক পরিমাণ কত—সেটি নির্ধারণ করা সহজ হবে।
একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থাটির সুযোগ নিয়ে থাকলে supervisory level-এ প্রয়োজনীয় monitoring ছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনার দাবি রাখে।
অভিযোগের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি বিভাগের জন্য নির্ধারিত controlling officer রয়েছেন।
বিষয়টি সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এটি পর্যালোচনা করবেন এবং শেষ পর্যন্ত বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ফলে এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিমানের চূড়ান্ত তদন্ত ফল বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
ওভারটাইম ব্যবস্থায় সত্যিই অনিয়ম হয়েছে কি না, কতজন এতে জড়িত এবং প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত—সেটি নির্ধারণের জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও আর্থিক নথি যাচাই প্রয়োজন।
বিশেষ করে আলোচিত ‘মাসে দেড় কোটি টাকা অপচয়’ দাবিটির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হিসাবের পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত আর্থিক ক্ষতি হিসেবে উপস্থাপন না করে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা সমীচীন।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অভ্যন্তরীণ সূত্র