
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে স্বর্ণ, মোবাইল ফোন, সিগারেট, ভ্যাপ ও ভ্যাপ লিকুইড, বিদেশি মদ, মিল্ক পাউডার, নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম ও বিদেশি ওষুধসহ প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকার পণ্য আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
গত ১৭ থেকে ২১ আগস্ট বিমানবন্দরের বিভিন্ন শিফটে পরিচালিত পৃথক অভিযানে এসব পণ্য আটক করা হয়।
২১ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুবাই থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের FZ501 ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীকে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় তল্লাশি করা হয়। তার কাছ থেকে বিভিন্ন মডেলের আইফোন ও পিক্সেল ফোন, ১৬১ কার্টন MOND সিগারেট, হোয়াইটেনিং সিরাম ও দুটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। একই দিনে EK582 ও QR640 ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ থেকে বিদেশি মদ, ভ্যাপ লিকুইড ও সিগারেট আটক করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।
২০ আগস্ট পৃথক অভিযানে দুবাই ও বাহরাইন থেকে আসা EK582, BS342 ও GF250 ফ্লাইটের তিন যাত্রীর কাছ থেকে ২১ কার্টন সিগারেট, ৬৯ কেজি বা ১ হাজার ৭৪০ পিস নিষিদ্ধ ক্রিম, ২৯ দশমিক ৪ কেজি NAN Pro Nutrition মিল্ক পাউডার এবং ১১৬ পিস ক্রিমজাতীয় ওষুধ আটক করা হয়। এসব পণ্যের শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
একই দিনে আরও কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৮৩ কার্টন সিগারেট, ১৯৮টি ভ্যাপ, ১০টি Redmi Note 15 মোবাইল ফোন, ৩৬ কেজি গৌরি ক্রিম এবং চার লিটার বিদেশি মদসহ বিভিন্ন পণ্য আটক করা হয়। এসব অভিযানে আটক পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৮০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
এর আগে ১৮ আগস্ট কলম্বো থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের UL189 ফ্লাইটে ঢাকায় আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন মডেলের আইফোন ও রেডমি ফোন, আইফোনের SKD যন্ত্রাংশ এবং ২ হাজার ৪৮২ পিস বিদেশি ওষুধ আটক করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৪ লাখ ২ হাজার টাকা।
১৭ আগস্ট দুবাই থেকে এমিরেটসের EK584 ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৮৮১ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ পেস্ট উদ্ধার করা হয়। যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাত করার পর সেখান থেকে ৪৬১ গ্রাম স্বর্ণপিণ্ড পাওয়া যায়। একই যাত্রীর কাছ থেকে আট কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম ও ১৪ কার্টন MOND সিগারেটও আটক করা হয়। ওই অভিযানে আটক পণ্যের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ৯৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ দিনের এসব অভিযানে আটক পণ্যের ঘোষিত আনুমানিক ও শুল্ক-করসহ মোট মূল্য ২ কোটি ৭২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৪০ টাকা।
সিআইআইডি জানিয়েছে, চোরাচালানের পরিবর্তিত ধরন ও কৌশল শনাক্তে গোপন তথ্য সংগ্রহ, যাত্রী প্রোফাইলিং এবং শিফটভিত্তিক নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান ও অবৈধভাবে পণ্য আনার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।