
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। আগামী ২৫ আগস্ট কনসোর্টিয়ামটি তাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেবে। এরপর প্রস্তাব পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত দরকষাকষি শেষে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স (O&M) পরিচালনার জন্য জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
আগামী ২৫ আগস্ট জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর সেটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে বেবিচক। এরপর আর্থিক প্রস্তাব, রাজস্ব ভাগাভাগি, পরিচালন কাঠামো, সেবার মান এবং অন্যান্য শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত নেগোশিয়েশন অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আলোচনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি না হলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে অতিরিক্ত সময় লাগলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
প্রাথমিক আলোচনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের রাজস্বের ২৭ শতাংশ সরকারকে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রস্তাব পাওয়ার পর এ বিষয়সহ বাকি শর্তগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। সমঝোতা হলে ১৫ বছরের জন্য কনসোর্টিয়ামটি তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেতে পারে।
তৃতীয় টার্মিনালের অবকাঠামোগত কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন মূলত পরিচালন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর অপেক্ষা। সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটার যাত্রী ফ্লোরের আধুনিক এই টার্মিনালে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি বহির্গমন ও ৫৯টি আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ এবং ১২টি ব্যাগেজ কনভেয়ার বেল্টসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান ও পরিচালন সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।