
একটি শহরে নতুন বিমানবন্দর বা আধুনিক টার্মিনাল চালু হলে অনেকেরই প্রশ্ন—পুরোনো বিমানবন্দর বা টার্মিনালের কী হয়? সেটি কি বন্ধ হয়ে যায়, নাকি আগের মতোই চালু থাকে?
এর কোনো একক উত্তর নেই। নতুন স্থাপনা চালুর পর পুরোনো বিমানবন্দর বা টার্মিনালের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে যাত্রী ও ফ্লাইটের চাপ, অবকাঠামোর সক্ষমতা, অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর।
একই বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে সাধারণত পুরোনো টার্মিনাল সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয় না। বরং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কিংবা বিভিন্ন এয়ারলাইনকে আলাদা টার্মিনালে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। এতে যাত্রীসেবা সহজ হওয়ার পাশাপাশি পুরোনো টার্মিনালের চাপও কমে।
তবে পুরোনো টার্মিনালটি অত্যন্ত পুরোনো বা আধুনিক কার্যক্রমের অনুপযোগী হলে সংস্কার, বিকল্প কাজে ব্যবহার কিংবা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
শহরের অন্য জায়গায় সম্পূর্ণ নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করা হলে পুরোনো বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক ফ্লাইট নতুনটিতে স্থানান্তর করা হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রেই পুরোনো বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ হয় না। সেটি প্রশিক্ষণ, বিশেষ ফ্লাইট, কার্গো বা অন্য কোনো বিমান চলাচলের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
বিমান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হলে পুরোনো বিমানবন্দরের বিশাল জমি আবাসন, বাণিজ্যিক এলাকা, পার্ক, কনভেনশন সেন্টার, সরকারি স্থাপনা কিংবা নতুন নগর উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।
পুরোনো রানওয়ে কার্যকর থাকলে সেটি বিশেষ বিমান চলাচল, প্রশিক্ষণ বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ হলে রানওয়ের জায়গাও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হয়ে যেতে পারে।
পুরোনো টার্মিনাল ভবনের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা অন্যান্য সহায়ক কাজে ব্যবহার করা যায়। ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকলে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হতে পারে।
নতুন বিমানবন্দর বা টার্মিনালে ফ্লাইট স্থানান্তরের আগে এয়ারলাইন, নিরাপত্তা, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, যাত্রীসেবা ও পরিবহনসহ অনেক ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে হয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে ফ্লাইট স্থানান্তর করা হতে পারে।
যাত্রীদের জন্যও পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন বিমানবন্দর শহর থেকে দূরে হলে সড়ক, রেল, মেট্রো বা বাস যোগাযোগের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়। একই শহরে একাধিক বিমানবন্দর চালু থাকলে যাত্রীদের টিকিটে বিমানবন্দরের নাম ও টার্মিনাল ভালোভাবে যাচাই করাও জরুরি।
সাধারণত পুরোনো বিমানবন্দরের যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা সীমায় পৌঁছালে নতুন অবকাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। নতুন টার্মিনাল বা বিমানবন্দরে বেশি যাত্রী পরিচালনা, উন্নত নিরাপত্তা ও ব্যাগেজ ব্যবস্থা, বেশি উড়োজাহাজ পার্কিং এবং বড় পরিসরে কার্গো ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।
তাই নতুন বিমানবন্দর বা টার্মিনাল চালু হওয়া মানেই পুরোনোটির শেষ নয়। কোথাও দুটি পাশাপাশি কার্যক্রম চালায়, কোথাও পুরোনো স্থাপনার ব্যবহার বদলে যায়, আবার কোথাও সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি নির্ভর করে বিমান চলাচলের চাহিদা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর।