
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার আশঙ্কার মধ্যে বুলগেরিয়ার বেজমের বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক বিমানঘাঁটিতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বিটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ডেমার্দঝিয়েভ জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য হুমকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। এমনকি বর্তমানে যে মাত্রার ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার চেয়েও বেশি মাত্রার হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে বুলগেরিয়ার সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি ইরানি বাহিনী পর্যালোচনা করেছে।
প্রতিবেদনটিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বুলগেরিয়ার সামরিক স্থাপনাও থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এ ধরনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে বেজমের বিমানঘাঁটিতে নেওয়া বর্তমান নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সরাসরি আসন্ন হামলার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বুলগেরিয়ার কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত পদক্ষেপগুলোকে সতর্কতামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবেই বিবেচনা করছে।
নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই বেজমের বিমানঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে মার্কিন বিমানবাহিনীর উপস্থিতির কারণে।
বুলগেরিয়ার পার্লামেন্ট গত ২২ জুলাই মার্কিন বিমানবাহিনীকে বেজমের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। অনুমোদন অনুযায়ী সর্বোচ্চ আটটি KC-135 আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ এবং সর্বোচ্চ ২৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য সেখানে অবস্থান করতে পারবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৪ জুলাই থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত মার্কিন সামরিক সদস্য ও উড়োজাহাজগুলোর ঘাঁটিটিতে অবস্থানের কথা রয়েছে।
KC-135 Stratotanker মূলত আকাশে অবস্থানরত অন্য সামরিক উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং সক্ষমতা যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক উড়োজাহাজকে দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ দূরত্বে অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করে।
ফলে একাধিক KC-135 মোতায়েন কোনো বিমানঘাঁটির অপারেশনাল গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
বুলগেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বেজমের বিমানঘাঁটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান স্থাপনাগুলোর একটি। এর ভৌগোলিক অবস্থান কৃষ্ণসাগর অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি হওয়ায় বৃহত্তর আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সামরিক উড়োজাহাজের উপস্থিতি থাকলে ঘাঁটিটির নিরাপত্তা শুধু বুলগেরিয়ার অভ্যন্তরীণ সামরিক নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গেও তা যুক্ত হয়ে পড়ে।
আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজের উপস্থিতির কারণে ঘাঁটিটির ফ্লাইটলাইন, জ্বালানি অবকাঠামো, উড়োজাহাজ পার্কিং এলাকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তাও বাড়তি গুরুত্ব পায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বুলগেরিয়ার এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এসেছে। কোনো সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব ভৌগোলিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা সামরিক স্থাপনাতেও পড়তে পারে—এমন ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন দেশ তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত মূল্যায়ন করে।
সামরিক বিমানঘাঁটির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদারের অর্থ শুধু স্থলভাগে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন নয়। সম্ভাব্য হুমকির ধরন অনুযায়ী আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও এর অংশ হতে পারে।
তবে বুলগেরিয়ার বেজমের বিমানঘাঁটিতে এখন পর্যন্ত কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। সম্ভাব্য হুমকির তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আগাম সতর্কতা হিসেবে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র: Bulgarian News Agency (BTA)