
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের একটি ফ্লাইটে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে ১৮ দশমিক ৭২০ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১৬০টি স্বর্ণবার বর্তমানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযানটি পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG-148-এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বিমানবন্দরে কর্মরত ডিজিএফআই, এভিয়েশন সিকিউরিটি (AVSEC), কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা অংশ নেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানকালে মোট ১৬০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর সম্মিলিত ওজন ১৮ দশমিক ৭২০ কেজি।
উদ্ধারের পর স্বর্ণগুলো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
স্বর্ণগুলো উড়োজাহাজের ঠিক কোন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা শনাক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
ফলে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে স্বর্ণগুলো কীভাবে ফ্লাইটে এসেছে বা এর সঙ্গে কারা জড়িত—সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
যে ফ্লাইটে স্বর্ণগুলো পাওয়া গেছে সেটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG-148। ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসে।
আন্তর্জাতিক কোনো ফ্লাইট একাধিক বিমানবন্দর হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছালে যাত্রী, ব্যাগেজ, কার্গো এবং উড়োজাহাজের বিভিন্ন অংশের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযান চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বর্ণ উদ্ধারের এই অভিযানে একাধিক সংস্থা একসঙ্গে কাজ করেছে। ডিজিএফআইয়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এভিয়েশন সিকিউরিটি, কাস্টমস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা বিভাগ অভিযানে অংশ নেয়।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু যাত্রী ও উড়োজাহাজের সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অবৈধ পণ্য পরিবহন, চোরাচালান এবং বিমানবন্দর অবকাঠামো ব্যবহার করে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধেও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট, ব্যাগেজ, কার্গো বা অন্যান্য সম্ভাব্য স্থানে লক্ষ্যভিত্তিক তল্লাশি পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
উদ্ধার হওয়া ১৮ দশমিক ৭২০ কেজি স্বর্ণ বর্তমানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে স্বর্ণের উৎস, পরিবহনের পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কার্গো পরিবহন এবং ট্রানজিট কার্যক্রমও পরিচালিত হয়ে থাকে।
ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিষিদ্ধ ও অবৈধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
ডিজিএফআই, এভিয়েশন সিকিউরিটি, কাস্টমস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা বিভাগের সমন্বয়ে পরিচালিত সর্বশেষ অভিযানকে সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ