
বাংলাদেশের বাজারে কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ঢাকা–ব্যাংকক রুটে নতুন এয়ারবাস এ৩২১নিও (A321neo) উড়োজাহাজের বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করেছে থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল। গত ১৫ আগস্ট ঢাকা থেকে নতুন উড়োজাহাজটির প্রথম ফ্লাইট পরিচালিত হয়।
HS-TOA নিবন্ধনের উড়োজাহাজটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Bowonrungsi’। থাই এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হতে যাওয়া মোট ৩২টি এ৩২১নিওর মধ্যে এটি প্রথম। স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে যাত্রীসেবা উন্নয়ন এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়াতে এ উড়োজাহাজগুলো যুক্ত করছে এয়ারলাইন্সটি।
নতুন এ৩২১নিওতে দুই শ্রেণিতে মোট ১৭৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে রয়্যাল সিল্ক বা বিজনেস ক্লাসে ১৬টি এবং ইকোনমি ক্লাসে ১৫৯টি আসন রয়েছে।
রয়্যাল সিল্ক ক্লাসের আসনগুলো ১৮০ ডিগ্রি রিক্লাইন করে সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট বেডে রূপান্তর করা যায়। এখানে ২-২ এবং ১-১ বিন্যাসের ‘থ্রোন সিট’ রাখা হয়েছে। প্রতিটি আসনের প্রস্থ ২০ ইঞ্চি এবং সিট পিচ ৪৫ ইঞ্চি।
ইকোনমি ক্লাসে রয়েছে ১৫৯টি ১৮ ইঞ্চি প্রশস্ত আসন, যার সিট পিচ ৩১ ইঞ্চি। যাত্রীদের আরাম বাড়াতে ছয়ভাবে সমন্বয়যোগ্য লেদার হেডরেস্টও রয়েছে।
প্রতিটি আসনে আধুনিক ফোর-কে টাচস্ক্রিন ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। রয়্যাল সিল্ক ক্লাসে ১৭ দশমিক ৩ ইঞ্চি এবং ইকোনমিতে ১৩ দশমিক ৩ ইঞ্চি ডিসপ্লে রয়েছে। ব্লুটুথ অডিও সংযোগের পাশাপাশি উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে।
যাত্রীদের কেবিন ব্যাগ রাখার সুবিধা বাড়াতে এয়ারবাসের Airspace XL ওভারহেড বিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ বেশি ধারণক্ষমতা দিতে পারে। কেবিনের নকশায় ‘থাই কনটেম্পোরারি’ ধারণা এবং আধুনিক মুড লাইটিং ব্যবহার করা হয়েছে।
উড়োজাহাজটি CFM LEAP-1A ইঞ্জিনচালিত। আগের প্রজন্মের উড়োজাহাজের তুলনায় প্রতি আসনে জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সক্ষমতার কথা জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। এতে বড় আকারের উইংটিপ ‘শার্কলেট’ও রয়েছে।
থাই এয়ারওয়েজের এ৩২১নিও প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যাংকক–সিঙ্গাপুর রুটে যাত্রা শুরু করে। পরে ফুকেট ও দিল্লিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক গন্তব্যে উড়োজাহাজটি যুক্ত করা হয়। এবার ঢাকা–ব্যাংকক রুটে এ৩২১নিও যুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্যও আধুনিক কেবিন ও উন্নত ইন-ফ্লাইট সুবিধা নিয়ে এসেছে থাই এয়ারওয়েজ।