
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর ঘোষিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল পরীক্ষার সময় আকস্মিকভাবে গুলি বেরিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাটি সাময়িক উদ্বেগ তৈরি করলেও বিমানবন্দরের স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়। ঘটনাটি ঘটে ১৬ আগস্ট সকাল প্রায় সাড়ে ৯টায়। মুম্বাইগামী Air India Express-এর IX1810 ফ্লাইটের যাত্রী কমলেশ কেদারনাথ রাই স্ত্রীকে নিয়ে বিমানবন্দরে এসেছিলেন। তার কাছে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত 7.62 mm পিস্তল ও ২১টি তাজা কার্তুজ ছিল, যা তিনি নিয়ম অনুযায়ী check-in counter-এ ঘোষণা করেছিলেন।
অস্ত্রটির কথা জানানোর পর বাধ্যতামূলক security formalities সম্পন্ন করতে যাত্রীকে নির্ধারিত screening area-তে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে অস্ত্র ও ammunition পরীক্ষা করার সময় হঠাৎ একটি গুলি বেরিয়ে যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গুলিটি সরাসরি কাউকে আঘাত না করে ricochet বা অন্য পৃষ্ঠে লেগে দিক পরিবর্তনের পর দুই screening personnel-কে আহত করে।
আহতরা হলেন রোহিত রাজ ও সুমন কুমারী। তাদের দ্রুত বারাণসীর New Lakshmi Trauma Center-এ নেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে একজনের পায়ে এবং অন্যজনের হাত বা বৃদ্ধাঙ্গুলে আঘাত লাগার কথা বলা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয় এবং কমলেশ রাইকে তদন্তের জন্য আটক করা হয়। ফলে তিনি ও তার স্ত্রী নির্ধারিত ফ্লাইটে মুম্বাই গিয়েছিলেন কি না—এ নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে থাকা অনিশ্চয়তাও দূর হয়েছে। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ঘটনার পর যাত্রীকে detain করা হয়েছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে এবং ঘটনার আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করে।
ভারতের Bureau of Civil Aviation Security (BCAS) ঘটনাটির পরিস্থিতি পরীক্ষা করছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে licensed firearm বহন ও পরীক্ষা করার নির্ধারিত procedure যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ফলে ঠিক কার হাতে অস্ত্রটি ছিল বা কোন নির্দিষ্ট ভুলের কারণে গুলি বের হয়েছিল—তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথাযথ নয়।
ঘটনাটি বিমানযাত্রায় licensed firearm বহনের নিয়ম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে এনেছে।
কোনো ব্যক্তির বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স থাকা মানেই তিনি সাধারণ hand baggage-এর মতো অস্ত্র নিয়ে aircraft cabin-এ উঠতে পারেন—এমন নয়। বিমানবন্দরে অস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে airline ও aviation security-এর নির্ধারিত declaration, verification এবং carriage procedure অনুসরণ করতে হয়।
কমলেশ রাইও check-in counter-এ তার অস্ত্রের বিষয়টি ঘোষণা করেছিলেন এবং এরপরই তাকে mandatory screening-এর জন্য নির্ধারিত এলাকায় নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ঘটনাটি কোনো undeclared firearm security breach ছিল না; দুর্ঘটনাটি ঘটে ঘোষিত অস্ত্রের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা চলাকালে।
Firearm handling-এর মৌলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অস্ত্র unloaded কি না, chamber-এ কোনো round রয়েছে কি না এবং ammunition কী অবস্থায় আছে—এসব যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিমানবন্দরের মতো জনবহুল ও security-sensitive স্থানে accidental discharge-এর পরিণতি আরও গুরুতর হতে পারে। বারাণসীর ঘটনায় projectile ricochet করে দুই কর্মীকে আহত করার বিষয়টি সেই ঝুঁকিই সামনে এনেছে।
তবে কীভাবে 7.62 mm পিস্তলটি discharge করল এবং prescribed handling procedure-এর কোনো ধাপে ত্রুটি হয়েছিল কি না, সেটিই এখন BCAS-এর তদন্তের বিষয়।
টার্মিনালের ভেতরে গুলির ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর কারণে বারাণসী বিমানবন্দরের flight operations-এ কোনো disruption হয়নি।
ঘটনাটি তাই শুধু একটি accidental firearm discharge নয়; বিমানবন্দরে বৈধ অস্ত্র বহন ও handling-এর ক্ষেত্রে নির্ধারিত safety procedure কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও নতুন করে সামনে এনেছে।
সূত্র: ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় (MoCA)