
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জুলাইযোদ্ধাদের বিমানভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। একই সঙ্গে জুলাইযোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন সেবায় ৩৬ শতাংশ ছাড় পাবেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সম্মাননা ও আলোচনা’ অনুষ্ঠানে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোই যথেষ্ট নয়; তাঁদের এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁরা যেন দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য বিমানভাড়ায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে।
এ সময় জুলাইযোদ্ধাদের বিমানভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান জানান, জুলাইযোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন সব হোটেল-মোটেল এবং অন্যান্য সেবায় ৩৬ শতাংশ ছাড় পাবেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কাজ করবে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের পর্যটনসেবা গ্রহণ আরও সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোতে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বাস্তবমুখী সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
জুলাইযোদ্ধাদের বিমানভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হলেও কোন কোন এয়ারলাইনস ও রুটে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে, কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কীভাবে ছাড় পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
একইভাবে পর্যটন করপোরেশনের সেবায় ঘোষিত ৩৬ শতাংশ ছাড় গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র, যাচাই প্রক্রিয়া কিংবা অন্যান্য শর্ত সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘোষিত সুবিধাগুলো কার্যকর হলে জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ ও পর্যটনসেবা গ্রহণের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আয়োজিত সম্মাননা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও চেয়ারম্যানের বক্তব্য।