
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইতালির রোমে প্রায় ৪০ ঘণ্টার ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার পর দেশে ফিরেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইটের ২৫৯ যাত্রী। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে রোমে কাটানো দুর্বিষহ সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় উড়োজাহাজের ভেতরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে টার্মিনালে নেওয়া হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী অনেক যাত্রী হোটেলে যাওয়ার অনুমতি পাননি।
যাত্রীদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না থাকায় অনেককে চেয়ার ও লাউঞ্জে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশুখাদ্য ও ডায়াপার পেতেও সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
যাত্রী শাহজাহান আলম বলেন, প্রায় ৪০ ঘণ্টা তাদের ‘যাযাবরের মতো’ কাটাতে হয়েছে। কানাডিয়ান ও মার্কিন পাসপোর্টধারীদের হোটেলে নেওয়া হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের বিমানবন্দরের ভেতরেই থাকতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফ্লাইটের যাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়েম রানাও যাত্রী ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীদের এভাবে অপেক্ষায় রাখার ঘটনায় জবাবদিহির প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
টরন্টো থেকে ২৫৯ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারটি। শুক্রবার রোমের ফিউমিচিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হলে উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড করা হয়।
স্থানীয়ভাবে ত্রুটি সারানো সম্ভব না হওয়ায় ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশসহ প্রকৌশলী দল পাঠায় বিমান। মেরামত শেষে উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের উপযোগী ঘোষণা করা হলে শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব যাত্রীর জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি থাকলেও প্রয়োজনীয় ভিসা না থাকায় ইতালির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী অনেক যাত্রীকে বিমানবন্দরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। বিমানবন্দরে অবস্থানরত যাত্রীদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
অবশেষে রোববার দুপুরে ঢাকায় অবতরণের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০ ঘণ্টার অপেক্ষা ও ভোগান্তির অবসান ঘটে যাত্রীদের।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও যাত্রীদের ইন্টারভিউ