
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে তীব্র টার্বুলেন্সের কবলে পড়েছে। এতে যাত্রী ও কেবিন ক্রুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পর উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইটটিতে মোট ১৩৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের একপর্যায়ে স্বল্প সময়ের জন্য তীব্র টার্বুলেন্সের মুখে পড়ে উড়োজাহাজটি। এ সময় উড়োজাহাজটির উচ্চতায় আকস্মিক পরিবর্তন হলে কেবিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হঠাৎ ঝাঁকুনির কারণে কয়েকজন যাত্রী আসন থেকে ছিটকে গিয়ে আঘাত পান। কেবিন ক্রুদের মধ্যেও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
দিল্লিতে অবতরণের পর এক যাত্রী তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই উড়োজাহাজটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে যায়। আকস্মিক এই পরিবর্তনে তার মাথা কেবিনের ছাদে আঘাত করে এবং তিনি আসন থেকে নিচে পড়ে যান।
অন্য কয়েকজন যাত্রীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাত লাগে।
টার্বুলেন্সের সময় সিটবেল্ট বাঁধা না থাকলে যাত্রীরা আসন থেকে ওপরে উঠে যাওয়া কিংবা কেবিনের ছাদ ও অন্যান্য শক্ত অংশে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। একই কারণে কেবিনে চলাচলরত ক্রু সদস্যদের জন্যও আকস্মিক টার্বুলেন্স বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু আহত হলেও এখন পর্যন্ত কারও গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
দিল্লিতে অবতরণের পর আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। টার্বুলেন্সের কারণে উড়োজাহাজটিরও সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।
এয়ার ইন্ডিয়া বলেছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
টার্বুলেন্স হলো বায়ুপ্রবাহের অনিয়মিত পরিবর্তনের কারণে উড়োজাহাজে তৈরি হওয়া আকস্মিক ঝাঁকুনি বা উচ্চতার পরিবর্তন। আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিস্থিতি, জেট স্ট্রিম, বজ্রঝড় কিংবা ভিন্ন গতিতে চলা বায়ুপ্রবাহের কারণে এটি সৃষ্টি হতে পারে।
বেশির ভাগ টার্বুলেন্স উড়োজাহাজের জন্য বড় ধরনের কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি করে না। আধুনিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিভিন্ন মাত্রার বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন সহ্য করার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়। তবে তীব্র টার্বুলেন্সের সময় কেবিনের ভেতরে যাত্রী ও ক্রুদের আহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
বিশেষ করে আকস্মিক টার্বুলেন্স হলে যাত্রীদের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় খুব কম থাকতে পারে। কখনো পরিষ্কার আকাশেও এমন বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যেখানে দৃশ্যমান মেঘ বা ঝড় না থাকায় পরিস্থিতি আগেভাগে শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।
টার্বুলেন্সে যাত্রী আহত হওয়ার অন্যতম ঝুঁকি হলো আসন থেকে ছিটকে পড়া। এ কারণেই ফ্লাইট চলাকালে সিটবেল্ট সাইন বন্ধ থাকলেও বসে থাকা অবস্থায় সিটবেল্ট বাঁধা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হঠাৎ উড়োজাহাজের উচ্চতায় পরিবর্তন ঘটলে সিটবেল্ট বাঁধা যাত্রীকে আসনের সঙ্গে ধরে রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে কেবিন ব্যাগেজ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী নিরাপদভাবে রাখাও জরুরি। কারণ তীব্র ঝাঁকুনিতে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা কোনো বস্তু যাত্রী বা ক্রুদের জন্য আঘাতের কারণ হতে পারে।
কেবিন ক্রুরাও টার্বুলেন্সের আশঙ্কা থাকলে যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধতে এবং কেবিন নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তবে আকস্মিকভাবে তীব্র টার্বুলেন্স শুরু হলে দায়িত্ব পালনরত ক্রু সদস্যরাও আহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
তীব্র টার্বুলেন্স এবং কয়েকজন আহত হওয়ার পরও ফ্লাইটটি নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অবতরণের পর আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি উড়োজাহাজটির ক্ষয়ক্ষতিও পরীক্ষা করা হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত ও কারিগরি পর্যালোচনা শেষ হলে টার্বুলেন্সের সময় উড়োজাহাজটির পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি ও এয়ার ইন্ডিয়ার বিবৃতি