
দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি হলো রানওয়ে। উড়োজাহাজের নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণ অনেকটাই নির্ভর করে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের ওপর। বড় আকারের আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ ও প্রশস্ত রানওয়ে, আর ছোট ও মাঝারি আকারের উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দৈর্ঘ্যের রানওয়েও যথেষ্ট। বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর রানওয়ের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।
বর্তমানে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দরে। সম্প্রসারণ কাজ শেষে এর দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৭০০ ফুট এবং প্রস্থ ১৫০ ফুট, যা বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রাজধানীর এই বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৫০০ ফুট এবং প্রস্থ ২০০ ফুট (৬১ মিটার)। এটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে সব ধরনের ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে সক্ষম।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ৬৪৬ ফুট এবং প্রস্থ ১৫০ ফুট। অন্যদিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ হাজার ২৫০ ফুট (৩,১২৫ মিটার) এবং প্রস্থ ১৫০ ফুট। এই দুটি বিমানবন্দর থেকেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে যশোর বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৮ হাজার ফুট এবং প্রস্থ ১৫০ ফুট। সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ হাজার ফুট এবং প্রস্থ ১০০ ফুট। এসব বিমানবন্দর মূলত অভ্যন্তরীণ রুটে এয়ারবাস এ৩২০ ও বোয়িং ৭৩৭ শ্রেণির উড়োজাহাজের নির্দিষ্ট অপারেশনের উপযোগী।
| বিমানবন্দর | দৈর্ঘ্য | প্রস্থ |
|---|---|---|
| কক্সবাজার বিমানবন্দর | ১০,৭০০ ফুট | ১৫০ ফুট |
| হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | ১০,৫০০ ফুট | ২০০ ফুট |
| ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | ১০,২৫০ ফুট | ১৫০ ফুট |
| শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | ৯,৬৪৬ ফুট | ১৫০ ফুট |
| যশোর বিমানবন্দর | ৮,০০০ ফুট | ১৫০ ফুট |
| সৈয়দপুর বিমানবন্দর | ৬,০০০ ফুট | ১০০ ফুট |
| শাহ মখদুম বিমানবন্দর (রাজশাহী) | ৬,০০০ ফুট | ১০০ ফুট |
| বরিশাল বিমানবন্দর | ৬,০০০ ফুট | ১০০ ফুট |
বর্তমানে সরকার দেশের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণে কাজ করছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের বিমান চলাচল সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামো আরও আধুনিক ও সক্ষম হয়ে উঠবে।