
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলিতে ফেলে যাওয়া একটি মূল্যবান ব্যাগ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিক প্রবাসী যাত্রীর কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ব্যাগে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ব্যাংক কার্ড, মানিব্যাগসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত সামগ্রী ছিল।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় একটি ট্রলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্যাগটি দেখতে পান আনসার সদস্য এপিসি মো. জগলুল পাশা।
ব্যাগটি নজরে আসার পর তিনি বিষয়টি ক্যানোপি ইনচার্জ পিসি মো. আলতাফ হোসেন এবং শিফট ইনচার্জ পিসি মো. মোজাম্মেল হোসেনকে জানান।
পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া ব্যাগটির মালিককে শনাক্ত করতে ক্যানোপি-২ ও আশপাশের এলাকায় মাইকিং শুরু করেন দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা।
এদিকে ব্যাগটি হারানোর বিষয়টি বুঝতে পেরে এর মালিক প্রবাসী মো. মাসুদুজ্জামান তালুকদার নারায়ণগঞ্জ থেকে আবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসেন।
পরে উদ্ধার হওয়া ব্যাগটি নিজের বলে দাবি করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সরাসরি সেটি হস্তান্তর না করে প্রথমে পরিচয় ও ব্যাগের ভেতরে থাকা সামগ্রীর তথ্য যাচাই করেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. আশিকুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাগে থাকা এনআইডি, ব্যাংক কার্ড, মানিব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রীর তথ্য মিলিয়ে প্রকৃত মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর ব্যাগটি মো. মাসুদুজ্জামান তালুকদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মূল্যবান ব্যাগ ও ব্যক্তিগত নথিপত্র ফিরে পেয়ে তিনি দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিমানবন্দরের মতো ব্যস্ত স্থানে কোনো ব্যাগ, মানিব্যাগ বা মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেলে শুধু কেউ মালিকানা দাবি করলেই সেটি তার হাতে তুলে দেওয়া নিরাপদ পদ্ধতি নয়।
বিশেষ করে এনআইডি, পাসপোর্ট, ব্যাংক কার্ড, অর্থ বা অন্যান্য ব্যক্তিগত নথি থাকলে ভুল ব্যক্তির হাতে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই মালিকের পরিচয় এবং ব্যাগে থাকা সামগ্রীর তথ্য মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর হস্তান্তর করা lost-property management-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এই ঘটনায় ব্যাগে থাকা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে মালিক নিশ্চিত করার পর সেটি ফেরত দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথি ও আর্থিক সামগ্রী ভুল ব্যক্তির হাতে যাওয়ার ঝুঁকিও এড়ানো গেছে।
বিমানবন্দরে যাত্রীরা check-in, immigration, baggage collection, transport বা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার ব্যস্ততার মধ্যে অনেক সময় ট্রলি, বসার স্থান বা গাড়িতে ছোট ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ভুলে রেখে যেতে পারেন।
এমন পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, সংশ্লিষ্ট airline বা airport authority-কে জানানো উচিত। কোথায় এবং আনুমানিক কখন জিনিসটি হারিয়েছে, ব্যাগের রং ও ধরন, ভেতরে কী ছিল—এ ধরনের তথ্য দিলে সেটি শনাক্ত করা সহজ হয়।
পাসপোর্ট বা ব্যাংক কার্ড হারিয়ে গেলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানিয়ে card block করার পাশাপাশি পাসপোর্ট হারানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়।
একজন আন্তর্জাতিক যাত্রীর জন্য পাসপোর্ট, এনআইডি, ব্যাংক কার্ড বা প্রয়োজনীয় travel document হারানো শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এতে পরবর্তী যাত্রা, ব্যাংকিং এবং পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
তাই বিমানবন্দর ছাড়ার আগে passport, wallet, mobile phone, hand baggage এবং প্রয়োজনীয় documents সঙ্গে আছে কি না একবার যাচাই করা ভালো।
শাহজালালের এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যের নজরে ব্যাগটি দ্রুত আসা, পরবর্তী সময়ে মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা এবং পরিচয় যাচাই করে সেটি হস্তান্তরের ফলে একজন প্রবাসী যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত সামগ্রী ফিরে পেয়েছেন।
সূত্র: বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ।