
বৈরী আবহাওয়া এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের সংকটের কারণে নিউইয়র্ক অঞ্চলের চারটি প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা ধীরগতিতে চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সোমবার জন এফ. কেনেডি (জেএফকে), লাগার্ডিয়া, নিউয়ার্ক লিবার্টি এবং ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটের গতি কমিয়ে দেয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক এয়ার রুট ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টারে জনবল সংকটের কারণে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, চারটি বিমানবন্দরে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এফএএ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইটের গ্রাউন্ড ডিলে গড়ে ৭১ থেকে ১৪৯ মিনিট পর্যন্ত পৌঁছেছে।
সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যয়নপ্রাপ্ত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ঘাটতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে। বর্তমানে নিউইয়র্ক এরিয়া টার্মিনাল রাডার অ্যাপ্রোচ কন্ট্রোল (TRACON) কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবলের মাত্র ৫৭ শতাংশ কর্মরত রয়েছেন। এর ফলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন, বাধ্যতামূলক ওভারটাইম এবং সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করতে হচ্ছে অনেক নিয়ন্ত্রককে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই এফএএ নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট সীমাবদ্ধতার মেয়াদ ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জেএফকে ও লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের ফ্লাইট সীমাবদ্ধতা ২০২৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে টেকঅফ ও অবতরণের স্লট ধরে রাখার জন্য এয়ারলাইন্সগুলোর ন্যূনতম ৮০ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনার যে নিয়ম রয়েছে, তাতে সাময়িক শিথিলতা দিয়েছে এফএএ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এয়ারলাইন্সগুলো ১০ শতাংশ কম ফ্লাইট পরিচালনা করলেও তাদের স্লট বাতিল করা হবে না।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটিয়ে উঠতে এফএএ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।