
বিমানবন্দরের আশপাশে অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়ন এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের বিমান চলাচল খাতের অন্যতম বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) এবং বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দরের নির্ধারিত নিরাপত্তা এলাকায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উড্ডয়ন বা অবতরণের সময় ড্রোন বিমান ইঞ্জিন, ককপিটের উইন্ডশিল্ড বা ডানার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ বা বিলম্বিত করা হতে পারে।
বিশ্বে এর একাধিক নজির রয়েছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ার ঘটনায় কয়েক দিন ধরে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়, যার ফলে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। একই ধরনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরেও সাময়িকভাবে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটেছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন ড্রোন শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না; এটি নিরাপত্তা নজরদারি, জরুরি সেবা এবং বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বিমানবন্দরের নির্ধারিত সুরক্ষা এলাকায় ড্রোন পরিচালনায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)ও সাধারণ মানুষকে বিমানবন্দর ও এর আশপাশে অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ড্রোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি অনিয়ন্ত্রিত ড্রোনের কারণে শত শত যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে, পাশাপাশি তৈরি হতে পারে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি।