
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকারের প্রায় ২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ঠিকাদারের প্রায় ১৮ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকার দাবি আলোচনার মাধ্যমে ১৬ হাজার ২২৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনার সুপারিশের ফলে সম্ভাব্য এই সাশ্রয় হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মোট দাবি ছিল প্রায় ১৮ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা, যা ট্যাক্স ও ভ্যাট ছাড়া হিসাব করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশনায় গঠিত Amicable Settlement Committee ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে। বিভিন্ন দাবি ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনার পর কমিটি দাবির পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ২২৫ কোটি টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে।
বেবিচকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ঠিকাদারের প্রাথমিক দাবি এবং আলোচনার পর সুপারিশ করা অর্থের মধ্যে পার্থক্য প্রায় ২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা।
সংস্থাটি বলছে, কমিটির আলোচনার মাধ্যমে ঠিকাদারের দাবি এই পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হওয়ায় সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক দায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তবে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চূড়ান্ত আর্থিক নিষ্পত্তি কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারকে মোট কত অর্থ পরিশোধ করতে হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
Amicable Settlement Committee-এর ভূমিকা নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে বেবিচক।
সংস্থাটির বক্তব্য, কোনো অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়নি। বরং ঠিকাদারের উত্থাপিত দাবি যাচাই, আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সরকারের আর্থিক স্বার্থ রক্ষাই ছিল কমিটির কাজ।
বেবিচকের দাবি, কমিটির কার্যক্রমের ফলে ঠিকাদারের পুরো দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বড় অবকাঠামো প্রকল্পে মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত কাজ, ব্যয় বৃদ্ধি, সময়সীমার পরিবর্তন বা অন্যান্য কারণে ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে আর্থিক দাবি তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের বিরোধ দীর্ঘমেয়াদি সালিশ বা আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ালে প্রকল্পের ব্যয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক দায় ও সময়ক্ষেপণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বেবিচক বলছে, আলোচনার মাধ্যমে দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ায় একদিকে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা ও অতিরিক্ত আর্থিক দায় এড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প। নতুন টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রমে যুক্ত হলে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ব্যবস্থাপনা ও অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
ফলে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয়, ঠিকাদারের অতিরিক্ত দাবি এবং আর্থিক নিষ্পত্তির বিষয়গুলো রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঠিকাদারের ১৮ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকার দাবি ১৬ হাজার ২২৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনার সুপারিশের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত আর্থিক নিষ্পত্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই সরকারের প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)