
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল বা থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বরে শুরু হতে পারে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী টার্মিনালটির প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পরিচালনাগত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অবশিষ্ট কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে ডিসেম্বরে যাত্রীসেবার জন্য টার্মিনালটি চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) প্রকাশিত এক ব্যাখ্যায় বেবিচক জানায়, থার্ড টার্মিনালের মূল নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে।
একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালুর ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। যাত্রী ও উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হয়।
বেবিচকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের ক্ষেত্রেও এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগিতা নিশ্চিত করাই ছিল প্রস্তুতিমূলক কাজের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এ ধরনের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা চালুর পর বিমান সংস্থা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, নিরাপত্তা, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সেবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন হয়।
বেবিচক জানিয়েছে, সরকারের উদ্যোগে থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে ডিসেম্বরে কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখ কিংবা কোন কোন বিমান সংস্থা প্রথম পর্যায়ে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে সরবরাহ করা ব্যাখ্যায় বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
ফলে ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চূড়ান্ত সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে।
থার্ড টার্মিনাল চালু হলে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে বেবিচক। এর ফলে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সেবা দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের সামগ্রিক পরিচালনাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। নতুন টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হলে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর যাত্রী পরিচালনার চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কতটা কমবে কিংবা কোন কোন সেবায় কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নতুন টার্মিনালের বাস্তব পরিচালনা পদ্ধতি ও সক্ষমতা ব্যবহারের ওপর নির্ভর করবে।
বেবিচকের মতে, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে শুধু যাত্রীসেবা নয়, দেশের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সামগ্রিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কার্গো পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে নতুন ফ্লাইট বা রুট চালুর বিষয়টি বিমান সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত, যাত্রীচাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন টার্মিনাল চালুর মধ্য দিয়ে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, বিমানবন্দর পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এসব সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য টার্মিনালের কারিগরি প্রস্তুতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত পরিচালনাগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)