
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এয়ারলাইনস র্যাংকিংয়ে কয়েক বছর ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কাতার এয়ারওয়েজ। সেবার মান, কেবিন অভিজ্ঞতা, ইন-ফ্লাইট বিনোদন, বিজনেস ক্লাস, নিরাপত্তা এবং যাত্রীসন্তুষ্টির মতো বিভিন্ন সূচকে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন্সের স্বীকৃতি পেয়েছে।
তবে বৈশ্বিক এই স্বীকৃতির পরও বাংলাদেশের যাত্রীদের একটি বড় অংশের কাছে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স হিসেবে এখনো এমিরেটস-এর নামই বেশি শোনা যায়। মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে বিস্তৃত রুট নেটওয়ার্ক, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা এবং ব্র্যান্ড পরিচিতির কারণে অনেক যাত্রীর প্রথম পছন্দ এমিরেটস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক র্যাংকিং আর নির্দিষ্ট দেশের যাত্রীদের জনপ্রিয়তা—দুটি ভিন্ন বিষয়। যাত্রীরা সাধারণত টিকিটের মূল্য, ট্রানজিট সময়, গন্তব্যের সংখ্যা, লাগেজ সুবিধা, ফ্লাইটের সময়সূচি, সেবার অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে এয়ারলাইন্স নির্বাচন করেন। এসব ক্ষেত্রে এমিরেটস দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
অন্যদিকে কাতার এয়ারওয়েজও বাংলাদেশে দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। আধুনিক বহর, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নত ট্রানজিট সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্সের স্বীকৃতি কাতার এয়ারওয়েজের হলেও বাংলাদেশের বাজারে এমিরেটসের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ও যাত্রী আস্থার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখনো অনেক ভ্রমণকারীর প্রথম পছন্দ। ফলে বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে কাতার এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশি যাত্রীদের পছন্দের তালিকায় এমিরেটসের জনপ্রিয়তা এখনও উল্লেখযোগ্য।