
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বর্ষা মৌসুমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আসার বিপরীতে অনেক আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সময়মতো পণ্য খালাস না করায় গুদামের ধারণক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দ্রুত পণ্য খালাসের আহ্বান জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করছে। এসব ফ্লাইটে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমদানি কার্গো দেশে আসছে।
বর্ষা মৌসুমে পণ্য সংরক্ষণ ও হ্যান্ডলিংয়ে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হওয়ায় বিদ্যমান কার্গো অবকাঠামোর ওপর চাপ আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ওয়্যারহাউজ আংশিক সংস্কার করে সীমিত পরিসরে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
তবে ওয়্যারহাউজটি পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে আরও সময় প্রয়োজন। এর মধ্যেই বিদ্যমান অবকাঠামো ও সক্ষমতা ব্যবহার করে আমদানি কার্গো কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
ফলে দ্রুত পণ্য খালাস না হলে নতুন করে আসা কার্গোর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং গুদামে চাপ বাড়তে থাকে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে আসছে, সেই তুলনায় অনেক আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সময়মতো পণ্য খালাস করছেন না।
এর ফলে কার্গো এলাকার ধারণক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্ষাকালে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু পণ্য খোলা জায়গায় রাখতে হচ্ছে। তবে আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য গ্রহণ করলে কার্গো এলাকায় জমে থাকা পণ্যের পরিমাণ কমবে এবং নতুন পণ্য সংরক্ষণের জায়গা তৈরি হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, বৃষ্টিপাত একটি প্রাকৃতিক বিষয়। এর পাশাপাশি অনেক আমদানিকারক নির্ধারিত সময়ে পণ্য গ্রহণ না করায় কার্গো এলাকায় জট তৈরি হচ্ছে।
তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ওয়্যারহাউজের একটি অংশ সংস্কার করেছে। বর্তমানে বিদ্যমান সক্ষমতার মধ্যেই কার্গো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা সময়মতো পণ্য গ্রহণ করলে কার্গো ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কার্গো খাতের ব্যবসায়ীরা অবশ্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে অবকাঠামোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের Warehouse Management System (WMS) চালু করা হলে কোন পণ্য কোথায় রয়েছে, কতদিন ধরে রয়েছে এবং কখন ডেলিভারি হবে—এসব তথ্য আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে বারকোড বা RFID-ভিত্তিক ট্র্যাকিং এবং ডিজিটাল কার্গো ব্যবস্থাপনা চালু হলে পণ্য শনাক্তকরণ, সংরক্ষণ, অনুসন্ধান ও ডেলিভারির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হতে পারে।
বিশেষ করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং করা একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পণ্যের অবস্থান ও চলাচলের ডিজিটাল রেকর্ড কার্গো ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
আধুনিক কার্গো অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের হ্যান্ডলিং সময় কমানোর পাশাপাশি দেশের এয়ার কার্গো সক্ষমতাও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে নতুন অবকাঠামো চালুর আগ পর্যন্ত বিদ্যমান সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার এবং দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করাই বর্তমান চাপ সামাল দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আমদানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে সময়মতো পণ্য খালাসের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র