
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি দেশের জেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রন্ধনশিল্প আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরাই এসব আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি ও বিস্তারিত কর্মসূচি প্রণয়নসংক্রান্ত এক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি।
সভায় পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
একই সঙ্গে জেলা পর্যায়েও সমন্বিতভাবে দিবসটি উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে দিবস উদযাপন নয়; বরং এসব আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বিশ্ববাসীর সামনে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা।
এ লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পর্যটন খাতের বেসরকারি অংশীজনদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সভায় পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রস্তুতকৃত বিশেষ টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টিভিসি) প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে দেশের পর্যটন গন্তব্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আকর্ষণ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সম্মানে লাইভ কুকিং শো ও রান্না প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এসব আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় রন্ধনশিল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এবারের প্রতিপাদ্যে পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
পর্যটন গন্তব্যের তথ্য সহজলভ্য করা, অনলাইন বুকিং ও পর্যটনসেবা উন্নয়ন, পর্যটকদের চাহিদা বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যটন বিপণনে আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা, ডিজিটাল প্রচার এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।
তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যবাহী খাবার আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পরিকল্পিত কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে এসব সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসিসহ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দেশব্যাপী সমন্বিত আয়োজন ও প্রচার কার্যক্রম বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে দেশের পরিচিতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
সূত্র: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের সভাসংক্রান্ত তথ্য।