
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীদের দ্রুত লাগেজ সরবরাহে নতুন মানদণ্ড তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এয়ারলাইনটি।
রোববার কক্সবাজারে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স: কক্সবাজার অনলাইন জার্নালিস্ট ফ্যাম ট্রিপ ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
“আমরা চাই, যাত্রী লাগেজের জন্য অপেক্ষা করবেন না; বরং লাগেজই যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করবে।”
২০১৪ সালে যশোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা বর্তমানে ১৩তম বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি Airbus A330-300, নয়টি Boeing 737-800 এবং ATR 72-600সহ বিভিন্ন উড়োজাহাজ রয়েছে।
বর্তমানে দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, প্রতিষ্ঠানটি IATA ও IOSA-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। চার হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে এয়ারলাইনটির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
ইউএস-বাংলার বহর সম্প্রসারণের বড় পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে আরও ২১টি Boeing উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি Boeing 737-8 এবং ছয়টি Boeing 737-800NG রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ইউএস-বাংলার narrowbody বহর উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্য চালুর সক্ষমতাও বাড়বে।
বহর বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও সম্প্রসারণ করতে চায় ইউএস-বাংলা। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনায় কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো ও হংকং রয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাং রুটেও নিয়মিত ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি চলছে।
ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারের বড় অংশ বর্তমানে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে রয়েছে। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর বহর ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা গেলে এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা, সময়নিষ্ঠতা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক এয়ারলাইন্স হিসেবে ইউএস-বাংলাকে বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী এভিয়েশন ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমানো এবং সামগ্রিক arrival experience উন্নত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের baggage handling অবকাঠামো ও ground operation-এর সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স; ‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স: কক্সবাজার অনলাইন জার্নালিস্ট ফ্যাম ট্রিপ ২০২৬’-এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য