
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় ধরনের বহর সম্প্রসারণে যাচ্ছে বাংলাদেশের এয়ারলাইনগুলো। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা, এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ার মিলিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে লিজে প্রায় ৪০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় এয়ারলাইনগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ২০২৭ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নিয়ে বহর ২৯টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ছয় বছরের জন্য তিনটি Boeing 787-9 Dreamliner ড্রাই লিজে নিতে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্রও আহ্বান করেছে বিমান।
এটি বিমানের নতুন Boeing উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা থেকে আলাদা। নতুন কেনা উড়োজাহাজের ডেলিভারি শুরু হতে আরও কয়েক বছর লাগায় মধ্যবর্তী সময়ের সক্ষমতা বাড়াতেই লিজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২১টি Boeing 737-8-এর কথা বলা হলেও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বিষয়টি সংশোধিত হয়েছে।
এয়ারলাইনটি পাঁচটি আন্তর্জাতিক lessor-এর মাধ্যমে ১৫টি Boeing 737-8 এবং ছয়টি Boeing 737-800—মোট ২১টি উড়োজাহাজ ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। ঘোষিত সম্প্রসারণ কর্মসূচির মূল্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
এসব উড়োজাহাজ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রুট চালু এবং বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে চারটি ATR 72-600 পরিচালনাকারী এয়ার অ্যাস্ট্রা ২০২৭ সালের মধ্যে বহর ১০টিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আরও দুটি turboprop-এর পাশাপাশি চারটি লিজড Boeing 777 যুক্ত করে প্রথমবারের মতো widebody operation-এ প্রবেশ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। Boeing 777 যুক্ত করার পরিকল্পনা ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা।
একই সময়ে নভোএয়ারও নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর যাত্রীর চাপ দীর্ঘদিন ধরেই বেশি। তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে passenger handling, aircraft parking ও ground operation-এর সক্ষমতা বাড়বে। ফলে স্থানীয় এয়ারলাইনগুলোর জন্য নতুন আন্তর্জাতিক রুট এবং অতিরিক্ত frequency পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে ঘোষিত সব উড়োজাহাজ এখনো বহরে যুক্ত হয়নি। অধিকাংশই পরিকল্পনা, leasing process বা ভবিষ্যৎ induction schedule-এর পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের প্রকৃত বহরের আকার নির্ভর করবে aircraft availability, financing, regulatory approval এবং নির্ধারিত সময়ে delivery পাওয়ার ওপর।
দেশীয় এয়ারলাইনগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী বহর বাড়াতে পারলে তৃতীয় টার্মিনালের অতিরিক্ত সক্ষমতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারে স্থানীয় এয়ারলাইনগুলোর উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: BSS