
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশি নাগরিকদের কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি চক্রের কথিত মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনশ্রীর আফতাবনগর এলাকা থেকে মাহফুজ উল্লাহ সিদ্দিকী (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের কম্বোডিয়ায় পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাকে সন্দেহ করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
তবে মামলাটি তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, মাহফুজ উল্লাহ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মানবপাচারসংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
ওই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম সংশ্লিষ্ট ইউনিট অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত, কীভাবে বাংলাদেশিদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হতো এবং সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
মামলার তদন্তের স্বার্থে মানবপাচার চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
আন্তঃদেশীয় মানবপাচারের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি দেশের মধ্যেই পুরো নেটওয়ার্ক সীমাবদ্ধ থাকে না। কর্মী সংগ্রহ, ভ্রমণের নথিপত্র তৈরি, বিমান টিকিট, বিদেশে গ্রহণ এবং গন্তব্য দেশে অবস্থানের ব্যবস্থায় বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
ফলে এ ধরনের মামলায় শুধু একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
তাই কম্বোডিয়াসহ বিদেশে চাকরির প্রস্তাব পেলে শুধু বেতন বা দ্রুত বিদেশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
চাকরির প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে রয়েছে কি না, নিয়োগপত্র বৈধ কি না, কোন ধরনের ভিসায় নেওয়া হচ্ছে এবং গন্তব্য দেশে সংশ্লিষ্ট কাজ করার আইনগত অনুমতি রয়েছে কি না—এসব যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে পর্যটন বা ভিজিট ভিসায় নিয়ে গিয়ে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের immigration ও employment rules যাচাই না করে যাত্রা করা উচিত নয়।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং কিংবা ভিসা হাতে পাওয়া মানেই চাকরিটি বৈধ—এমন নয়।
কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের উপযুক্ত visa বা work authorization এবং বাংলাদেশের প্রযোজ্য অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো মধ্যস্থতাকারী যদি দ্রুত বিদেশ পাঠানোর কথা বলে বড় অঙ্কের অর্থ, পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত নথি চায়, তাহলে তার পরিচয় ও অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন।
একইভাবে বিদেশে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, চুক্তির বাইরে কাজ করতে বাধ্য করা, চলাচলে বাধা দেওয়া কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ করানোর মতো পরিস্থিতি মানবপাচার বা শ্রম শোষণের গুরুতর সতর্কসংকেত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবপাচারের ক্ষেত্রে বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ transit point। বৈধ যাত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রা করলেও গন্তব্যে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য, ব্যবহৃত ভিসা এবং বিদেশে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণে মানবপাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ইমিগ্রেশন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বৈধভাবে কম্বোডিয়ায় পর্যটন, ব্যবসা বা অনুমোদিত কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে মানবপাচারের ঘটনাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিটি যাত্রীর পরিস্থিতি ও নথিপত্র আলাদাভাবে বিবেচ্য।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তে চক্রটির অন্য সদস্য, অর্থ লেনদেন, সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ এবং বাংলাদেশ থেকে কম্বোডিয়া পর্যন্ত যাত্রাপথ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশের তদন্ত এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারিত হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)