
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের লন্ডন গ্যাটউইক বিমানবন্দরে অবতরণের আগে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর উড়োজাহাজের টায়ারে সম্ভাব্য ত্রুটির সংকেত পাওয়া যায়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানবন্দরের জরুরি সেবাদানকারী দলকে প্রস্তুত রাখা হয়। তবে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গত ৩ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার কলম্বো থেকে লন্ডন গ্যাটউইকগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট বিএ২০৪৪ (BA2044)-এ এ ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজটির নিবন্ধন নম্বর জি-ওয়াইএমএমটি (G-YMMT)।
এভিয়েশন জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাটউইকে অবতরণের প্রস্তুতির সময় ককপিটে একটি টায়ারের চাপ কমে যাওয়া বা টায়ার ফ্ল্যাট হওয়ার সম্ভাব্য সতর্কসংকেত পান পাইলটরা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরের জরুরি সেবাদানকারী দলকে আগাম সতর্ক করা হয়।
এরপর উড়োজাহাজটি গ্যাটউইক বিমানবন্দরের রানওয়ে ০৮আর-এ নিরাপদে অবতরণ করে। রানওয়ে ছেড়ে ট্যাক্সিওয়েতে যাওয়ার পর পাইলটরা উড়োজাহাজটি থামিয়ে দেন। সেখানে জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা উড়োজাহাজের টায়ারসহ সংশ্লিষ্ট অংশ পরীক্ষা করেন।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে উড়োজাহাজটির বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা যাত্রী ও ক্রুদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পরিদর্শন শেষে উড়োজাহাজটিকে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, কলম্বো থেকে উড়োজাহাজটি বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে (ইউটিসি) গ্যাটউইকে পৌঁছায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে (ইউটিসি) একই উড়োজাহাজ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিএ২২৩১ (BA2231) ফ্লাইট হিসেবে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের উদ্দেশে যাত্রা করে।
তবে ঠিক কোন টায়ার থেকে সতর্কসংকেত এসেছিল কিংবা পরিদর্শনে টায়ারের প্রকৃত কোনো ত্রুটি পাওয়া গিয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, ককপিটে টায়ারের চাপসংক্রান্ত সতর্কসংকেত পাওয়া মানেই টায়ার সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট হয়ে গেছে, এমন নয়। তবে উড়োজাহাজের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সংকেত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করা জরুরি।
ঘটনাটির কারণে ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে সরিয়ে নিতে হয়নি। পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের জন্য উড়োজাহাজটিকে ফ্লাইট পরিচালনার বাইরে রাখারও প্রয়োজন পড়েনি।
সূত্র: Aviation Journal।