
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ইউরোপের আকাশপথে পরপর দুই দিন একাধিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেনামি হুমকির কারণে কয়েকটি ফ্লাইটের গন্তব্য পরিবর্তন, জরুরি অবতরণ এবং যুদ্ধবিমানের পাহারায় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ অবতরণের ঘটনা ঘটেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে এমন হুমকি ছড়িয়ে পড়ায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউরোপের অন্তত সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। পরদিনও একাধিক ফ্লাইটে বোমা থাকার হুমকি পাওয়া যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সর্বশেষ ঘটনাগুলোর মধ্যে ডাবলিন থেকে ইতালির রোমগামী এয়ার লিঙ্গাসের একটি এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজে নিরাপত্তাসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজটি জরুরি সতর্কবার্তা পাঠায়। সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় ফ্লাইটটির গতিপথ পরিবর্তন করে ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের এভরেক্স বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করানো হয়।
একই দিনে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি থেকে রোমগামী ফিনএয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজেও বোমা হামলার হুমকি পাওয়া যায়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাহারায় উড়োজাহাজটিকে রোম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে। যুদ্ধবিমানগুলো ফ্রান্স নাকি ইতালির বিমানবাহিনীর ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগগামী চারটি ফ্লাইটে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বা তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি বিস্ফোরক রাখার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর দেশটির পুলিশ ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
প্রাগে উড়োজাহাজগুলো অবতরণের পর বিশেষায়িত বোমা শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়কারী দল দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে চেক পুলিশ জানিয়েছে, পাওয়া হুমকিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হুমকির মুখে পড়া অন্যান্য ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, স্পেনের মাদ্রিদ এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের তিনটি ফ্লাইট।
এ ছাড়া ইতালির মিলান থেকে পোল্যান্ডের ওয়ারশগামী উইজএয়ারের একটি ফ্লাইট এবং ওয়ারশ থেকে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসগামী লট পোলিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটেও একই ধরনের হুমকি পাওয়া যায়।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে কয়েকটি উড়োজাহাজের নির্ধারিত গন্তব্য পরিবর্তন করে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং বুলগেরিয়ার প্লোভদিভ বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলোর স্বাভাবিক পরিচালন কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
এর আগে মঙ্গলবারের হুমকির ঘটনাগুলোতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হলেও কোনো বিস্ফোরক বা বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে পরপর দুই দিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচলব্যবস্থায় এমন হুমকি দেখা দেওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় এ ধরনের হুমকির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা মূল্যায়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন, নিরাপদ বিমানবন্দরে অবতরণ এবং উড়োজাহাজে বিশেষ তল্লাশির মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় একই সময়ে একাধিক ফ্লাইটে হুমকির ঘটনা ঘটলেও এগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যাত্রী, ক্রু এবং উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।